আরো আলো আরো আলো

ইন্টারনেটে সত্য় অণ্বেষন

ফেক নিউজ: আজকাল এই কথাটা খবরে এবং সোশাল মিডিয়া তে প্রায়ই আমরা শুনি বা পড়ি। সাদা বাংলায় "ফেক নিউজ" এর অর্থ হল মিথ্য়ে খবর। তবে এটা শুধু অনুবাদ। আসুন জেনে নি এই কথাটার আসল মানে কি। কি করে বুঝবো কোন তথ্য়টা মিথ্য়ে, এবংফেক নিউজ" আর ইন্টারনেট এ পাওয়া তথ্য়ের সত্য়ি-মিথ্য়ে জেনে নেবার সহজ উপায় কি।

"ফেক নিউজ" কথাটি ব্যবহার করা হয় ভুল অথবা বিভ্রান্তিকর তথ্য বোঝানোর জন্য | ধাপ্পাবাজি বা স্ক্যাম জড়িত রটনাগুলোও এইকথাটিতে অন্তর্ভুক্ত | ফেক নিউজ সবসময় ক্ষতি করার জন্য ছড়ানো হয়না ঠিকই , কিন্তু উদ্যেশ্য যাই হয়ে থাকুক না কেন , মিথ্যে বা জাল খবরের সাধারণত একই পরিণতি হয়- বেশিরভাগ লোক সেটা কে সত্যি মনে করে এমন কিছু কাজ করে বা মতামত গঠন করে যাতে তাদের বা অন্যদের ক্ষতি হয় | আজকালকার ডিজিটাল যুগে এরকম যে কোনো খবর এক থেকে দশ, আর দশ থেকে একশো ডিভাইস এ দাবানল এর মতো ছড়িয়ে যায় নিমেষে |

সবথেকে চিন্তার বিষয়, ত্রূটিপূর্ণ তথ্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে শুরু করে রাজনীতি পর্যন্ত সমস্ত ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে মানুষ কে ঠেলে দেয় গভীর বিপদে।

বিশেষজ্ঞ ক্লেয়ার ওয়ার্ডল এই "ফেক নিউজ" এর নাম দিয়েছেন "ইনফরমেশন পলিউশন", অর্থাৎতথ্যদূষণ। তিন ধরণের তথ্যদূষণ চিহ্নিত করেছেন তিনি :

  • মিস-ইনফরমেশন : নির্দোষ ভুল তথ্য, এমন কোনো ত্রূটিযুক্ত খবর যাতে প্রত্যক্ষ ভাবে কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নেই।
  • ডিস্-ইনফরমেশন : দুষ্প্রচার, যে তথ্যের উদ্দেশই হলো অন্যের অনিষ্ঠ সাধন
  • ডিস্-ইনফরমেশন : দুষ্প্রচার, যে তথ্যের উদ্দেশই হলো অন্যের অনিষ্ঠ সাধন (source)

কিছু ক্ষেত্রে প্রচারের একটা মাধ্যম হিসেবে ও মূলধারার সংবাদ মাধ্যমগুলিতে ব্যবহার করা হতে পারে জাল খবর কে । আপনার হয়তো মনে হচ্ছে আপনি কখনো জাল খবরের ফাঁদে পা দেননি, অথবা আপনি অনায়াসেই চিনে ফেলতে পারেন ভুল তথ্য কোনটা । কিন্তু ফেক নিউজ কত টা বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে সেটা জেনে আপনি অবাক হবেন।

আপনি কি জাল তথ্য চিনতে পেরেছেন?

শন ২০১১ তে, কানাডায় ১১০ মিলিয়ন বছর পুরোনো ডাইনোসর জীবাশ্ম পাওয়া যাবার খবরটি ভাইরাল হয়ে যায়।আসলে কিছু পাওয়া গেছিলো কি?

সত্য

মিথ্য

“একজন বিজয়ী এমন এক স্বপ্নদর্শী যিনি কখনও হাল ছাড়ে না (এ উইনার ইজ এ ড্রিমার হু নেভার গিভ্স আপ)” – বিখ্যাত উদ্ধৃতিটি ১৯৩২ এ করেছিলেন মেরি ক্যুরি। সত্যি না মিথ্যে ?

সত্য

মিথ্য

২০১১ তে বহুল প্রচারিত একটি ছবি – হারিকেন আইরিন এর সময় জলমগ্ন রাস্তায় একটি হাঙর সাঁতার কাটছে -সেটা ফেক না তো?

বাস্তব

মিথ্য

মালাবার নামে একটা সাতরঙা কাঠবিড়াল – বাসস্থান ভারতবর্ষ – এটাও কি একটা অল্টারড ফটো?

সত্য

মিথ্য

সেই ভিডিওটা মনে আছে? প্রাক্তন মার্কিন যুক্তরাষ্ট রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ভাষণের পর পদাঘাতে দরজা প্রায় ভেঙে ফেললেন – আপনি কি নিশ্চিত ভিডিওটা সঠিক?

বাস্তব

মিথ্য


প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর চয়ন এ মনে সংশয় এর উদ্রেক হচ্ছে কি? তাহলে জানবেন আপনি একা নন।জাল খবর নির্মাতা এতো কুশল পদ্ধতিতে সেটা সৃষ্টি এবং পরিবেশন করেন, যাতে খবরের যাথার্থ্য বিচার হয়ে যায় ভীষণ জটিল। সত্যের সন্ধানে তাই আজ আমাদের সকলকে সত্যান্বেষী হতেই হবে। ওপরের উদাহরণগুলো নিরীহ কৌতুক এর পর্যায়ে পড়ে – ওবামার দরজায় পদাঘাত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এর প্রতি আপনার পরিপ্রেক্ষিত কিছুটা পাল্টাতে পারে, কিন্তু ওই অবধিই।

গুজব যে খুব দূরে ছড়িয়ে পড়ে

সন ২০১৮ তে "লাইক, শেয়ার, কিল" নামের একটা প্রবন্ধে জানা যায় - সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কিছু মিথ্যে রিপোর্ট ফেসবুক এ ছড়ানোর দরুন নাইজেরিয়াতে ব্যাপক হিংস্রতা এবং নরহত্যার ঘটনার বিস্তার হয়।

ঘৃণ্য বক্তৃতা কর্মে পরিণত

২০১৮ তে ফেসবুক এ ফেক নিউজ আবার লাইম-লাইটএ মায়ানমারের রোহিঙ্গিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ জাগিয়ে তোলা হয় কিছু জাল একাউন্ট থেকে।ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয় এক আন্তর্জাতিক মানবিকতা সংকট, আর নির্মম গণহত্যার এক ইতিহাস।

দুর্ভাগ্যবশতঃ গত কিছু বছরে ফেক নিউজ অনেক ক্ষেত্রেই অপরিমেয় ক্ষতি করেছে।সেরকম কিছু উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করা যাক।

আপনি কি জানেন ১০ ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর হয়। আপনি এর ব্যাপারে আরও জানতে পারেন এখানে.

জাল খবরের ব্যাপারে আপনি অনুসরণ করতে পারেন এমন কয়েকটি পদক্ষেপ দেওয়া আছে

সত্যান্বেষণ এর পথেr

কোনও খবর যখন আপনার কাছে পৌঁছাচ্ছে, বিশেষ করে সেই খবর যদি চমকপ্রদ, ক্রোধ বা অভিঘাত সৃষ্টিকারী, বা একটু বেশি পরিমানে ভালো মনে হয়, তাহলে অভ্যাস তৈরী করুন তাকে কিছু প্রশ্ন করার। পরিবার আর বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার আগে আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন খবরটির সত্য অসত্য যাচাই করে নিতে।

  • কোন ওয়েবসাইট থেকে তথ্যটির উৎপত্যি?
    • এই ওয়েবসাইট কী ধরণের খবরের জন্য পরিচিত - নিরপেক্ষ সংবাদ নাকি নিছক গুজব আর পরচর্চা?
    • কে বা কারা এই ওয়েবসাইট চালানোর টাকা দেয়?
    • তাদের উদ্যেশ্য কি?
    • এটা কি একটা স্যাটায়ার ওয়েবসাইট, যার কাজই ব্যঙ্গধর্মী রচনা অথবা খবরের প্যারডি প্রকাশ করা?
    • ওয়েবসাইটটি কি কোনো রাজনৈতিক বা ধার্মিক, বা অন্য কোনো মতবাদের প্রতি পক্ষপাত পোষণ করে ? ( উদাহরণস্বরূপ,হোমিওপ্যাথিক নিরাময়ে বিশ্বাসী একটি ওয়েবসাইট হয়তো বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য বিরুদ্ধ মত রাখতে পারে। )
    • এই প্রবন্ধের আসল ইউআরএল কি? ( হতে পারে যে আসল ওয়েবসাইট এর অনুকরণে তৈরী আর একটা ওয়েবসাইট ইউ আর এল বদল করে পরিবেশন করা হয়েছে আপনাকে)
  • কে বা কারা প্রবন্ধটি লিখেছে (এবং কবে) ?
    • লেখক বা লেখিকা কে? তারা কি এই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ? তাদের অভিজ্ঞতা কতটা?
    • এই প্রবন্ধটি কি ওয়েবসাইট এর অপিনিয়ন্স অর্থাৎ মতামত অংশে প্রকাশিত হয়েছে? ( এই বিভাগের খবরে ব্যক্তিগত অভিমত মিশ্রিত থাকেব এর ঠিক ভুল নির্ধারণ এর মানদণ্ড ভিন্ন)
  • শিরোনাম এর পর বাকি প্রবন্ধের আসল বক্তব্য কি?
    • প্রবন্ধটি কি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা হয়েছে, নাকি যথাযথ গবেষণার পরে ?
    • কি ধরণের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে? সে গুলি কি মতামত ভিত্তিক(যেমন জঘন্য, অর্থহীন, নিদারুন, হাস্যকর) না বাস্তব ঘটনার উপর দাঁড়িয়ে ( কি ঘটেছে, কোথায় এবং কবে)
    • যদি এটা কোনো ছবি বা ভিডিও হয়, তাহলে তার কোয়ালিটি কেমন? যে কোনোরকম অস্পষ্টতা কৃত্রিমতার ইঙ্গিত হতে পারে।
  • তথ্যের সূত্র কি?
    • যদি কোনো পর্যালোচনা বা অন্য কোনো নিউজসূত্রের উল্লেখ থাকে, লিংক এ ক্লিক করে একবার তার বিশ্বস্ততা যাচাই করে নিন। যদি এটি অন্যান্য সংবাদ উত্সের সাথে লিঙ্ক করে, নিশ্চিত করে নিন যে সেগুলি বিশ্বাসযোগ্য
    • মুখ্য সূত্র বা মূল ইন্টারভিউটা একবার খুঁজে দেখুন ( হতে পারে কথা গুলি অপ্রাসঙ্গিক বা খবরটা ইতিমধ্যে মিথ্যে প্রমাণিত হয়ে গেছে)
    • অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা সংবাদ মাধ্যম খবরটি কে সমর্থন করছে কি?

    আপনার অনুসন্ধান দক্ষতা কে উন্নত করার জন্য খেলতে পারেন অনলাইন নিউজ ভেরিফিকেশন গেম এবং ব্যাড নিউজ

আরো উন্নীত অনুসন্ধান পদ্ধতির জন্য দেখুন : এক্সপোসিং দ্য ইনভিসিবল : দ্য কিট্স্ হাউ টু সি হোয়াটস বিহাইন্ড এ ওয়েবসাইট

আপনার সাহায্যের জন্যে আরো সংস্থান

ওপরের দেয়া প্রশ্নগুলির সাথে কিছু অনলাইন টুলস আপনার সত্যান্বেষণ এর যাত্রা কে আরো ত্বরাণ্বিত করতে পারে।