অ্যাপ ক্লেন্স - অদরকারি অ্যাপ সরিয়ে আপনার ফোন সুবিন্যস্ত রাখুন

আপনার অ্যাপ আপনার ফোন এর মতনই প্রচুর পরিমাণে ডেটা তৈরী করে | যত বেশি অ্যাপ আপনি ইন্স্টল করবেন, তত বেশি সম্ভাবনা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অ্যাপগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানিতে পৌঁছে যাওয়ার। অ্যাপ ডেটা লিক এর খবর নিশ্চয়ই আপনার নজরে এসেছে ।

ডিটক্স এর এই অংশে আপনি সুযোগ পাবেন সেই সব লোভী অ্যাপগুলোকে স্বমূলে বিনষ্ট করার, যাদের কাজ প্রতি মুহূর্তে আপনার তথ্য সংগ্রহ করে বাইরে পাচার করা : যেমন ধরুন কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ, যেটা আপনার মেসেজ আদান প্রদান অনুসরণ করছে, বা কোনো ডেটিং অ্যাপ, যেটা আপনার জিপিএস ঠিকানা দুনিয়াকে প্রচার করছে, বা কোনো গেমিং অ্যাপযেটা আপনার কন্টাক্ট লিস্ট এর খবর চাইছে ।

আপনি যদি কখন নিজের অ্যাপ স্ক্রল করেন এবং ভাবেন যে "আমি কখন এটি ডাউনলোড করেছি ?!" বা "এটি এমনকি কী করে?", তাহলে এটি আপনার জন্য। এবার শুরু করা যাক ।


ভেবে দেখুন – অ্যাপগুলো আসলে কি করছে?

মাঝে মধ্যে অ্যাপ ক্লেন্স করা জরুরি – বিশেষ করে সেই অ্যাপগুলো, যেগুলো আপনি কখনো ব্যবহার করেন না, বা যেগুলো দরকারের থেকে বেশি তথ্য সংগ্রহ করে ।

কোন অ্যাপ রাখবেন আর কোনটা সরাতে হবে, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ভালো করে অ্যাপগুলিকে দেখে নিন - এরকম কোনো অ্যাপ থেকে শুরু করুন যেটা বেশি ব্যবহার হয়, এবং নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করে দেখুন যে কি উত্তর আসে ।

১. আপনার কি সত্যিই এই অ্যাপ টা দরকার? শেষ কবে আপনি এই অ্যাপ ব্যবহার করেছিলেন? অ্যাপ না খুলে সোজা ব্রাউসার থেকেই কাজটা করা যায় কি? ২. এই অ্যাপ কিরকম তথ্য সংগ্রহ করছে? আপনার ঠিকানা, আপনার কন্টাক্ট তালিকা, আপনার নিয়মিত অভ্যাস – নাকি আরো কিছু? ভুলে যাবেন না, অ্যাপগুলো আজকাল আপনার বাড়ির ইলেকট্রিকাল উপকরণ (যেমন লাইট, টিভি, এসি ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করতেও সক্ষম । ৩. এই অ্যাপ-এর নির্মাতা কে? আপনি কি তাদের বিশ্বাস করেন? তাদের বিসনেস মডেল অর্থাৎ বাণিজ্য নীতি কি? আপনার প্রাইভেসী অর্থাৎ গোপনীয়তা কে তারা কতটা গুরুত্ব দেন? আপনি যদি অ্যাপ টা কোনো ব্যবসায়িক কোম্পানি থেকে বিনামূল্যে পাচ্ছেন, তাহলে খুব সম্ভবত তারা আপনার তথ্য বাইরে বিক্রি করে নিজেদের প্রফিট মার্জিন নিশ্চিত করছে। ৪. আর কোনো বিকল্প অ্যাপ আছে কি, যেটা আপনার প্রাইভেসী সম্পর্কে বেশি সচেতন? পরামর্শ নিতে আমাদের বিকল্প অ্যাপ কেন্দ্র দেখুন। ৫. আপনার তথ্যের বিনিময়ে আপনি কী পাচ্ছেন? এই আদান প্রদান এ আপনার বেশি লাভ হচ্ছে, না কোম্পানির?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে দিতে, কোন অ্যাপ আপনার চাই ,আর কোনটা এখনই ডিলিট করা উচিত, সেটা আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে ।

কী ধরণের ডেটা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, সেটা বোঝার জন্য এই লিংকগুলোতে ক্লিক করুন - ডেটা ডিটক্স সারসংক্ষেপ - অ্যাপ সংস্করণ আর আপনার ডেটিং জীবনে তৃতীয় ব্যক্তিটি কে?

অবান্তর অ্যাপগুলিকে বাদ দিন

সাধারণত মনে করা হয় যে সোশ্যাল মিডিয়া, খেলা, বা আবহাওয়া সংক্রান্ত অ্যাপগুলো বোধহয় খুব বেশি ডেটা সংগ্রহ করে না... কিন্তু বাস্তব অন্য কথা বলে । অদরকারি অ্যাপ সরানোর প্রক্রিয়া আপনার অনলাইন জীবন কে পরিশুদ্ধ করার একটা ভালো উপায়। নিয়মিত অ্যাপ পর্যালোচনা ইন্টারনেট ডেটা বা ফোন ব্যাটারী ব্যবহার কমিয়ে সামগ্রিক ভাবে ফোনের পারফরমেন্স বাড়িয়ে দিতে পারে।

কোনো অ্যাপ সরানোর আগে অবশ্যই সেটিংস বা প্রোফাইল এ গিয়ে আপনার একাউন্ট বন্ধ বা ডিলিট করুন। আপনি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে মেইল করে আপনার ডেটা ডিলিট করার আবেদন ও করতে পারেন। তারপর তথ্য-লোভী, অদরকারি অ্যাপগুলো সরিয়ে দিন

এন্ড্রয়েড:

  • সেটিংস → অ্যাপ → যেই অ্যাপ আপনি সরাতে চান → আনইনস্টল.

নোট: এন্ড্রয়েড এর নিজস্ব অ্যাপ, বা ফোন নির্মাতার ( এইচ. টি. সি., স্যামসাঙ, নোকিয়া ইত্যাদি ) প্রদত্ত অ্যাপগুলো ডিলিট করা যায় না।

আইফোন:

  • যে কোনো অ্যাপ টিপে রাখুন, যতক্ষণ না সব অ্যাপ নড়তে শুরু করে, এবং প্রতিটা অ্যাপ এর ওপরের বাম কোনে একটা ছোট্ট ক্রস চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। যেই অ্যাপ টা ডিলিট করতে চাইছেন, তার ওপরের ক্রস চিহ্নতে ট্যাপ করুন (টিপে দিন)। তারপর হোম বাটন ট্যাপ করে নরমাল মোড এ ফিরে আসুন।

নোট: আইফোন এর নিজস্ব অ্যাপ ডিলিট করা যায় না।

অনুমতি প্রদান করা বা না করা আপনার হাতে

মাঝেমধ্যে কিছু অ্যাপের ডেটা-লোভ একটু বেশি বেড়ে যায়। আপনাকে তাই নজর রাখতে হবে - অ্যাপ টার কি সত্যিই এই তথ্যের প্রয়োজন আছে? উদাহরণ স্বরূপ, আপনার আবহাওয়া সংক্রান্ত অ্যাপ যদি আপনার কন্টাক্ট লিস্ট দেখতে চায়, বা আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ চায় আপনার লোকেশন এর খবর, বা আপনার ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে বসে - তাহলে সম্মতি দেয়ার আগে একটু ভেবে দেখুন।

যেকোনো পারমিশন, যেটা আপনার মনে হচ্ছে অ্যাপ টার দরকার নেই, সেটা বন্ধ করে দিন। পড়ে যদি আপনার মনে হয়, আপনি আবার অনুমতি দিতে পারেন অ্যাপ এর প্রাইভেসী সেটিং এ গিয়ে।

আইফোনে আপনি প্রাইভেসী তে গিয়ে বাছাই করে অনুমতির সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। এন্ড্রয়েড এর নতুন সংস্করণ এ আপনি সেটিংসঅ্যাপস এ গিয়ে প্রতিটা অ্যাপ এর জন্য আলাদা করে অনুমতি দিতে পারেন।

আপনার অ্যাপগুলির কত অপ্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে তা দেখে আপনি অবাক হয়ে যেতে পারেন।

অ্যাপ এর গোপনীয়তা মূল্যায়ন এর ব্যাপারে আরো জানতে হলে ডেটা ডেটক্স সারসংক্ষেপ - অ্যাপ সংস্করণ দেখুন।

প্রাইভেট বা বিকল্প অ্যাপ ব্যবহার করুন

ভালোভাবে অ্যাপ ক্লিন্স করতে থাকলে খুব বেশি কোম্পানি আপনার ব্যক্তিগত ডেটার সন্ধান পাবে না।

আমাদের পুরোনো প্রশ্নে ফিরে যাওয়া যাক - এর থেকে ভালো কোনো বিকল্প আছে কি? অনেক অ্যাপ আছে যারা প্রচলিত অ্যাপগুলোর মতোই কাজ করে কিন্তু আপনার তথ্যের বিনিময়ে টাকা রোজগার করে না।

এই ব্যাপারে পরামর্শ নিতে হলে আপনি বিকল্প অ্যাপ কেন্দ্র দেখতে পারেন।

নিত্য ব্যবহার্য বেশিরভাগ অ্যাপ বদল করাটা যদি আপনার খুব শক্ত কাজ মনে হচ্ছে, তাহলে একটা কি দুটো অ্যাপ দিয়ে শুরু করুন। যেমন ধরুন আপনার ব্রাউসার : ওটা কি ফায়ারফক্স বা কোনো প্রাইভেট আপ এর সাথে বদল করা যায়?

নিয়মিত পুনর্নবীকরণ

অ্যাপ ক্লেন্স কিন্তু একবার এর কাজ না - প্রতি দুই তিন মাসে একবার এই কাজ করা আপনার অভ্যাস এ পরিণত করুন। তাছাড়া প্রতিটা নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার সময় দেখে নিন অ্যাপটিকে কোন কোন অনুমতি দিচ্ছেন যাতে সেটা দরকার এর বেশি তথ্য সংগ্রহ করতে না পারে।

বাহ্! অসাধারণ! এইভাবে অ্যাপ রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত একটু সময় দিতে থাকলে আপনি ফোন এর অ্যাপগুলো কে অনেক ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

যা শিখলেন অন্যদেরও জানান!

আজকের এই ডিজিটাল যুগে কাজের সূত্রে বা ব্যক্তিগত সম্পর্কে আমাদের অনেকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয়ে থাকে - তাই এটাও সুনিশ্চিত করতে হবে যে বন্ধু বা কলিগদের অ্যাপ এর মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিগত ডেটা যাতে বাইরে না যায়। আপনার পরিচিতদের অ্যাপ ক্লেন্স এর সম্বন্ধে জানান এবং সেটা করতে নিবেদন করুন।

এরপর কী?